নিহত রতন আলী ঘোড়াইখালির এলাকার হোসেন আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। তার সংসারে দুই মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নরওয়ে ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রিয় দল ব্রাজিলের পরাজয়ের পর প্রতিপক্ষ দলের কিছু সমর্থকের নেতিবাচক ট্রলের মুখে পড়েন রতন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাতে তিনি খাবার না খেয়েই নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে যান।
সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পাউরুটি খেয়ে আবার নিজের ঘরে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন তিনি।
রতনের বাবা হোসেন আলী জানান, সকালে পাউরুটি খাওয়ার পর রতন আবার ঘরে চলে যায়। পরে রতনের শাশুড়ি তাদের বাড়িতে খড়ি দিতে এসে তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সকাল ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে রতন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হোসেন আলী আরও বলেন, রতন কিছুটা জেদি স্বভাবের ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং তার ২ মাসের সন্তান আছে। সন্তান জন্মের পর থেকে রতনের স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
কুমারখালী থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, রতন ব্রাজিল ফুটবল দলের একজন কট্টর সমর্থক ছিলেন। দলের পরাজয়ের পর প্রতিপক্ষের কিছু সমর্থকের ট্রলের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাবা, মা, স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a Reply