অভিযুক্তরা হলেন-ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, মো. আমিনুল ও মো. মাহাবুবসহ অজ্ঞাত কয়েকজন।
ভুক্তভোগী ওই নারী পোশাকশ্রমিকের অভিযোগ, ৫০ হাজার দাবি করায় পরে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী রুমা আক্তার বন্যা ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল হাজী আলাউদ্দিন স্কুলসংলগ্ন নিজ বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন রুমা আক্তার বন্যা। এ সময় ‘ঢাকা মিন্টু রোড ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, মো. আমিনুল ও মো. মাহাবুবসহ কয়েকজন তার বাসায় প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তার স্বামী আরিফ হোসেনকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়ে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এরপরও ভুক্তভোগীকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই নাফিউল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগের শেষ এখানেই নয়। ভুক্তভোগী নারী জানান, রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে ডিবি পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা চলে যাওয়ার পর তিনি ঘরে ঢুকে মালামাল এলোমেলো দেখতে পান। পরে ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ারে থাকা একটি ব্যাগে গচ্ছিত তিনটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পোশাকশ্রমিক বন্যার অভিযোগ, তল্লাশির সুযোগে তার অনুপস্থিতিতে ওই স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনটি ডিবি সদস্যরাই নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এসআই নাফিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা সহ খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চুরির বিষয়টি ওই এসআই নাফিউলের সোর্সের ব্যাপারেই শুনছি। ওকে খুঁজছি,ওকে না পাওয়া গেলে বিষয়টা নিশ্চিত হতে পারছি না। ওইতো এসআই নাফিউলকে কাজ দিছে। ওকে পেলে পুরো বিষয়টা জানতে পারবো। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply