সাভার প্রতিনিধি:ঢাকার আশুলিয়ায় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে পৃথক স্থানে অবস্থানরত দুই ভাইকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকা সংলগ্ন ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার গলি এবং ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান রিশান এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- স্থানীয় নেট ব্যবসায়ী সবুজ সরকারের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. শিপন (৩২) ও তার বড় ভাই মো. ইসমাইল (৩৫)। শিপনের ডান ঊরুতে গুলি লেগেছে এবং ইসমাইলের ডান পা ও পিঠে গুলি লেগেছে।
ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সবুজ সরকার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা সংলগ্ন এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা করছেন সবুজ সরকার। এ ব্যবসার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মো. শিপন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই এলাকার ভার্চ্যুয়াল পোশাক কারখানার গলিতে বসে ছিলেন শিপনের বড় ভাই মো. ইসমাইল। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৯ ব্যক্তি সেখানে এসে ইসমাইলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ইসমাইল পিঠ ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ওই ব্যক্তিরা পুনরায় মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের অদূরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে বসে থাকা মো. শিপনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সবুজ সরকার বলেন, শিপন আমার ব্যবসার টুকটাক কাজ করে। সে আমার প্রতিবেশী। শিপনের বড় ভাই ইসমাইল। আমার ব্যবসা নিয়া কখনো কোনো গ্যাঞ্জাম হয় নাই। তাদের দুইজনকে কেন গুলি করল, তা আমি বুঝতে পারতেছি না। আমার শত্রুরা যদি করত, তাহলে দুই ভাইকে দুই জায়গা থেকে তো গুলি করত না। পুলিশ প্রশাসনকে বলছি, তারা যেন মূল কারণটা বের করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, রাত ১০টার দিকে ইসমাইল ও শিপনকে হাসপাতালে আনা হয়। ইসমাইলের ডান পা ও পিঠে এবং শিপনের ডান ঊরুতে গুলির আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply